Home / বাংলাদেশ / ‘ভোটারদের সাহসিকতা একমাত্র বদলে দেবে নির্বাচন মাঠের চিত্র’

‘ভোটারদের সাহসিকতা একমাত্র বদলে দেবে নির্বাচন মাঠের চিত্র’

গত এক সপ্তাহে আড়াইশ’ ধানে শীষের নেতা-কর্মী গ্রেফতারের পরও সকল বাধা উপেক্ষা করে কখনও একা কখনও সহধর্মীকে নিয়ে গণসংযোগ করেছেন যশোর সদর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ।

বৃহস্পতিবার তিনি চুড়মনকাঠি, হৈবতপুর, বারীনগর ও কচুয়া ইউনিয়নে গণসংয়োগ করেছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া গণসংযোগের বিভিন্ন স্থানে তাকে বাধা দেয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেলেও তিনি স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। চুড়মনকাঠি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ শেষ করে তিনি ছুটে যান কচুয়া ইউনিয়নে, যেখানে প্রতিপক্ষের তান্ডবের শিকার ৯টি পরিবারের খোঁজ খবর নেন।

এ সময় অমিত বলেন, ভোটারদর সাহসীকতা বদলে দেবে ভোটের মাঠের সার্বিক চিত্র। আপনারা এতদিন ধরে লড়াই করছেন, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে, শেষ মুহূর্তে এসে হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে খুব সকালে ভোটের মাঠে পৌঁছে যেতে হবে।

চুড়মনকাঠি ইউনিয়নে প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার উসকানীতে কয়েকজন দুবৃত্ত গাড়ি ভাঙার চেষ্টা করলে উপস্থিত সাংবাদিকরা তা প্রতিহত করেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। সেখান থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হৈবতপুর বারীনগর বাজারে গিয়ে গণসংযোগ করেন।

তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরপরই প্রতিপক্ষ দলের সন্ত্রাসীরা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইসরাফিলকে মারধোর করে এবং হাত পা ভেঙে দেয়া হয়। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। দুবৃত্তরা ওই সময় খায়ের মেম্বারের দোকান ভাঙচুর করে এবং ওই হামলার নেতৃত্ব দেন শাহাজাহান কসাইয়ের ছেলে আনোয়ার, ইউপি মেম্বার হরেন, উজ্জল ও সাদ্দাম।

এরপর ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফুলতলা ও সাতমাইল বাজারে গণসংযোগ করে। স্থানীয় ভোটাররা এ সময় তাকে বলেন, প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের হাত ধরে ফুলতলা, ডহেরপাড়াসহ অত্র অঞ্চলে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা পরবর্তিতে আর অব্যাহত থাকেনি। বরং প্রশাসন ও দলীয় সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে প্রতিনিয়ত।

কাশিমপুর বাজারে গণসংযোগ করে কচুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে তিনি আগের রাতে সন্ত্রাসীদের চালানো তান্ডবের ধ্বংসস্তুপ দেখেন এবং আতংকগ্রস্থ পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, সন্ধ্যার পরপরই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জনের একটি দল মটরসাইকেলে করে এলাকায় প্রবেশ করে। তাদরে সকলের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল। খালকুলপাড়ার এক শিশু হামলাকারীদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এলাকার ইরান মেম্বার, আখতার, সালামসহ কয়েকজনের বাড়িঘর চিনিয়ে দিতে বলা হয়। তারা ধানের শীষের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতিটি বাড়ির আসবাপত্র ভাঙচুরসহ লেপ, তোষক, বালিশে আগুন দিয়ে ভস্মিভূত করে।

কচুয়া ইউনিয়নের ইরান মেম্বার, রায়মানিক পাড়ার আখতার হোসেনে, কচুয়া খানপাড়ার অধ্যাপক আব্দার, আব্দুল মালেক খান, মনিরুজ্জামান নান্টু, আব্দুস সালাম খান, আমির হোসেন, আব্দুল্লা ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির সমস্ত আসবাপত্র ভাঙচুর করা হয়। ঘরের মহিলাদেরকে শাররীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রার্থীর কাছে তারা অভিযোগ করেন।

অমিত এ সময় সকলকে মনোবল দৃঢ় রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সাহসীকতা বদলে দেবে ভোটের মাঠের সার্বিক চিত্র। আপনারা এতদিন ধরে লড়াই করছেন, শেষ মুহূর্তে এসে হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে খুব সকালে ভোটের মাঠে পৌঁছে যেতে হবে।

এদিকে প্রার্থী ভগলপুর গ্রামে যাওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযোগ করেন মকবুল, মকছেদ, জিয়া, নাটুয়াপাড়ার মহাসীন, আলী আহমেদ, শাহাজাহান, মতিয়ারসহ কয়েকজন দুবৃত্ত প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা ভোটের মাঠে না যাওয়ার জন্য বলছে।

তাদের কথা শুনে প্রার্থী অমিত বলেন, আপনারা সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। সেদিন কোন সংকট থাকবে না। তিনি শ্যামনগর গ্রামে পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ তার কাছে ছুটে আসেন এবং তাদের ওপর চলমান নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. সাবেরুল হক সাবুসহ দলের শীর্ষ পাঁচ নেতা, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন নাসু, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা দলের জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের পদধারী প্রায় আড়াইশ’ নেতা কমীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। 

Check Also

সোনারগাঁয়ে চলন্ত বাসে কিশোরী ধর্ষণ, চালক আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বদেশ বাসে চলন্ত অবস্থায় এক কিশোরী ধর্ষণরত অবস্থায় স্বদেশ সার্ভিস নামের একটি বাসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *